বুক রিভিউ: বৃষ্টি ও মেঘমালা
মায়াদ্বীপ এমনই এক জায়গা যেখানে খুঁজলেই সব প্রিয়জনদের পাওয়া যায়। তাদের খুব কাছে যাওয়া যায় না, কিন্তু পায়ের শব্দ পাওয়া যায়। শোনা যাবে তাদের চাপা হাসি, প্রিয় পদরেখা দেখা যাবে। মায়াদ্বীপ হতে গেলে শর্ত দুইটি; জনমানবশূন্য দ্বীপ হতে হবে আর পুরো দ্বীপে কদমগাছ ছাড়া কোন গাছ থাকবে না।
এমন মায়াদ্বীপ তৈরি করা কি সম্ভব? হাসানের সেক্রেটারি লীনার মতে তার স্যার পারেন না এমন কোন কাজই নেই। কত আশ্চর্য ধরনের কথাই তিনি বলেন! এত বুদ্ধিমান মানুষটার একটা ফার্ম আছে। হাসান বিভিন্ন ধরনের ভাষ্কর্য তৈরি করেন। এবার তিনি কাজ পেলেন ইয়াকুব সাহেবের কাছে। প্রায় দুশো বিঘা জমিতে এক বিশাল নগরী বানাতে হবে। কিন্তু তার কিছুই সাধারন হবে না, নগরীতে জীবন্ত ডাইনোসুর থাকবে, থাকবে স্বচ্ছ পানির লেক, রঙ্গিন মাছ। আর থাকবে একটা গুহা। সেই গুহার শেষ প্রান্তে কি আছে কেউ জানে না।
অন্তু জ্বর বাধিঁয়েছে। তার বাবা বলেছে জ্বর বাঁধিয়ে সে ভালো করেছে। কিন্তু ভালোটা কি তা তার ছোট্ট মাথায় ঢুকছে না। হাসান অন্তুকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে যেতে অন্তুর মনের কথাগুলো বলে দেয়। অন্তু দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে ভাবে,বাবা তার মনের কথাগুলো কিভাবে জেনে ফেলে?
মায়ানগরীর পূর্নিমায় লীনা ধবধবে শিফনের শাদা শাড়ি পড়ে ঘুরছে। যদিও কাজ শেষ জয় নি তবুও। সে ভাবছে স্যারের কথা। মানুষটা জানে সৌন্দর্য কি, কিভাবে ব্যাখ্যা করতে হয়। বীণাটা ফিজিক্স পড়তে পড়তে কাঠখোট্টা স্বভাবের হয়ে গেছে। ফিরোজ কি ভেবে তাকে এই শাড়িটা দিয়েছিলো কে জানে?
অন্তু খুব অসুস্থ। কিন্তু তার একটা দাওয়াত আছে। তার সমবয়সী একটি বিদেশি মেয়ের সাথে মায়ানগরে ঢোকার নিমন্ত্রন। সে কি মাদ্রাজ থেকে সুস্থ হয়ে ফিরতে পারবে? পারবে ইয়াকুব সাহেবের হাত ধরে মায়ানগরে ঢুকতে?
নাকি কোন এক আষাঢ়ের সন্ধ্যায় মায়াদ্বীপে বাবার সাথে কদমবনে লুকোচুরি খেলবে?
মায়ানগর নাকি মায়াদ্বীপ?
জানতে হলে পড়তে হবে হুমায়ূন আহমেদের লেখা “বৃষ্টি ও মেঘমালা” বইটি।
বই: বৃষ্টি ও মেঘমালা
লেখক: হুমায়ূন আহমেদ
প্রথম প্রকাশ: একুশে বইমেলা ২০০১
প্রকাশনী: পার্ল পাবলিকেশন্স
প্রচ্ছদ: ধ্রুব এষ
মূল্য: ২০০ টাকা
“আলোকিত মানুষ চাই”
Leave বুক রিভিউ: বৃষ্টি ও মেঘমালা to:
Read more #bdc posts
Best Posts From tahmidtwelve
We have not curated any of tahmidtwelve's posts yet. But you can encourage our curation team to review posts by visiting them regularly and by referring other readers. Because we give priority to frequently read content.