অভিশাপ
একজন মানুষ যখন অসুস্থ থাকে, সেটা শারীরিক বা মানসিক দুই প্রকারের হইতে পারে। শারীরিক অসুস্থতা আপনার মানসিকতা নষ্ট করে দেয় আর মানসিক অসুস্থতা দিন দিন শরীর নষ্ট করে দেয়। আজ আমি মানসিক ভাবে একটু অসুস্থ। এবং দিন দিন আমার শরীর এই মানসিক অস্থিরতায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
ডাঃ গণ গবেষণা করে দেখেছে পৃথীবির 95 ভাগ মানুষ কোন না কোন ভাবে মানসিক রোগে ভুগছেন। কেউ বেসি বা কেউ কম, রোগ সবার আছে। আমিও এই 95 ভাগের মধ্যে আছি।
কেন আজকে আমি মানসিক রোগে ভুগতেছি সেই গল্প আজকে বলবো।
তখন আমি ভার্সিটিতে পড়ি। প্রথম দিন যাবো ভার্সিটিতে, অনেক চিন্তায় আছি সবকিছু নতুন, নতুন বন্ধু-বান্ধব, নতুন জায়গা। কার সাথে বন্ধুত্ব হবে, বা কোন মেয়ের উপর ক্রাস খাবো, এমন হইতে পারে কোন মেয়ে আমার উপর ক্রাস খাইতে পারে তার প্রস্তাবে রাজি হবো কি হবোনা।
এমন অনেক চিন্তা মাথায় নিয়ে ঠিক রাত তিনটায় জানালার পাসে বসে আছি।
ঢাকা শহরে রাতের দিকে ঝ্বী ঝ্বী পোকার ডাক সোনা যায় না, তবে সিএনজি, রিক্সা আর চার চাকার গাড়ির শব্দ এখনো মাঝে মাঝে পাওয়া যাচ্ছে।
ঘুম আর হলো না। ফজরের আযান দিয়ে দিলো, নামাজ পড়ে ভাবলাম একটু ঘুমানো দরকার।
সকাল বেলা ঘড়ির এলার্মে ঘুম ভাঙ্গলো। ফ্রেস হয়ে নাস্তা করে রওনা দিলাম ভার্সিটির উদ্দ্যেশে। নিজের ক্লাসরুম খুজে ঠিক পিছনের ডেক্সে বসে পরলাম।
স্কুল জীবন থেকেই আমি সামনের আসনে বসি না, ভাগ্য ভালো হওয়ার দরুন পরীক্ষার সিট সামনে কখনো পড়ে নাই। কিছুক্ষন পর দুই চারজনের একটা করে গ্রুপ ঢুকতেছে ক্লাসে। কথা শুনে বোঝা গেলো কেউ ঢাকার স্থানীয়, কেউ বা বরিসাল কেউ পাবনার। স্থানীয় ছেলেগুলার সাথে একটা সুন্দর মেয়ে দেখলাম। মেয়েটি দেখতে অনেকটা অপর্ণা ঘোষের মত। একজন মেয়েটিকে বললো মামা আপনে এইহানে বসেন আমরা পিছে আছি। মামা হওয়ার কারনে আর আগাইলাম না।
ছেলেগুলা আমার আসে পাসে এসে বসলো।
প্রথম আমার সাথে কথা বললো সীহাব নামের একটা ছেলে এবং আস্তে আস্তে তাদের সাথে কথা বলা শুরু হলো, দিন শেষে মনে হলো তাদের সাথে কতদিন থেকে পরিচয়।
পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব এভাবেই সবার সাথে একটা ভালো পরিচয় হয়ে গেলো। প্রকৃতির নিয়মে কিছুদিনের মধ্যে কয়েকটা গ্রুপ তৈরি হয়ে গেলো।
আমার সাথে সীহাব, নাসির, সৌরভ, মুবিন, রুবেল, মিঠুন, মামুন, বাপ্পি এবং সুদিপ্তত ভালো পরিচয় হয়। আরও কয়েকজন মেয়ে বান্ধবি থাকে তাদের মধ্যে একটি মেয়ে ছিলো ঢাকা কেরানীগঞ্জ থেকে ।
সবাই বলে কেরানীগঞ্জের মাইয়ারা অনেক সাহসী হয় কিন্তু এই মেয়ে আলাদা।
আমার পুরা ভার্সিটি লাইফে আমরা অনেক ভালো বন্ধু হয়ে ছিলাম। এর বেসি আর কিছু না।
কিন্তু যখন তার সাথে থাকতাম তার কথা বলার ধরন দেখেই তার দুর্বলতা বুঝা যাইতো। কিন্তু আমি ঐদিকটায় সেভাবে গুরুত্ব দিতাম না। যখন আমরা ফাইনাল ইয়ারে তখন সবার মাঝেই জানাজানি হয়ে গেছে সে আমাকে পচ্ছন্দ করে। সবাই এই বিষয়ে কথা বলাবলি শুরু করলো। বিষয়টা আমার কাছে খুব একটা ভালো লাগলো না। আমার বন্ধু সীহাবের সাথে তাছনিমের ভালো সম্পর্ক ছিলো, সবসময় ভাই ভাই বলে ডাকে।
আমাকে বলে 'ছেরি তো তোর লাইগা পাগল, তুই হের লগে এমন করস কেন।'
কথা প্রসঙ্গে ভুলেই গেছিলাম মেয়েটির নাম আপনাদের জানাই নাই। মেয়েটির নাম তাছনিম। দেখতে অনেক সুন্দর, বিশেষ করে তার চোখ। তার চোখে চোখ রেখে কথা বললে অন্য দিকে চোখ যাবে না কারো এটা গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি।
কেনো জানি সেই সময় আমার ফিলিংস বন্ধুর থেকে বেসি ছিলো না।
ফাইনাল ইয়ারের শেষের দিকে আমি অসুস্থ হয়ে পড়ি। ডিউডেনাল আলছার হওয়ার কারনে এক সপ্তাহ ল্যাব এইড হসপিটালে ভর্তি ছিলাম। আমার বাবা মা আমার সাথে ছিলো। সেখানে আমার বন্ধুরা আমাকে দেখতে আসে। তাছনিমো আসে তাদের সাথে, এসেই আমাকে দেখে সে কান্না শুরু করে।
আমি হসপিটালের বেডে, আমার বাবা মা পাসের চেয়ারে বসা, অন্য পাসে তারা সবাই, তাদের মাঝখানে সে দারায় কান্না করতেছে। সবাই চুপ। মনে হচ্ছে কোন এক বিশেষ কারনে আমরা দুই মিনিট নীরবতা পালন করতেছি।
নীরবতা ভাঙ্গলো সীহাব,,,
বললো... দোস্ত সুস্থ হ তারাতারি আমরা যাই।
এই বলে সবাই চলে গেলো,,, আমি লজ্জায় আমার বাবা মায়ের দিকে তাকাইতে পারি না। তাদের অলরেডি ধারনা হয়েই গেছে এই মেয়েই তাদের ঘরের বউ হবে।
কিন্তু ভাগ্য যদি তোমার সাথে তোমাকে নিয়েই খেলে তাহলে কিছু করার থাকে না।
সুস্থ হইলাম, ফাইনাল পরীক্ষা দিলাম। ঢাকায় আর কোন কাজ না থাকায় গ্রামে চলে আসলাম। পারিবারিক ব্যাবসা ছিলো সেটাই দেখতেছিলাম।
কিছুদিন পর থেকেই সীহাবের ফোন,, বলে,,, তুই তাছনিমের সাথে কথা ক,, মাইয়া আমারে পাগল বানায় দিছে।
আমি কই আমারে ফোন দিতে ক... ।।
কইলো সাহস নাকি পায় না।
বাধ্য হয়েই আমি ফোন দিলাম। ওকে বুঝাইলাম, আমার মনে তার জন্য কখনো ভালোবাসা ছিলো না, এখনো নাই। তাকে ভালো বন্ধু মনে করা ছাড়া আর কিছু ভাবি নাই। কিন্তু সে নাছোড়বান্দা, বলে তার ভালোবাসাই যথেষ্ট। দিন দিন মেয়েটার ভালোবাসা পাগলামোর দিকে যাচ্ছিলো। তার জন্য ঠিক ভাবে ব্যাবসা দেখতে পারি না। যার কারন আমি তার সাথে খারাপ ব্যাবহার করা শুরু কারলাম, তাকে রুম ডেট করার কথাও বললাম।
সে তাতেও রাজি....
এবার একটু অতিরিক্ত করে ফেললাম, তাকে নোংরা ভাষায় গালিগালাছ করলাম।
সে সহ্য করতে না পারে কান্না শুরু করলো,,, কাদঁতে কাদঁতে কয়েকটা কথা বললো.....
যেই কথা আজও আমার কানে বাঝতেছে.......
"তুমি আমার মন বুঝলা না, তোমার মন কোন মেয়ে বুঝবে না"
এই সামান্য একটা কথা আমার জীবনকে শেষ করে দিয়েছে।
আজ ভার্সিটি শেষ করার 9 বছর হচ্ছে, আমি ভালো একটা প্রাইভেট ফার্মের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।
এখনো বিয়ে করি নাই। যে মেয়ের সাথেই কথা বলি,, কিছুদিন পর সে ইগনোর করা শুরু করে। কি এক আজব কারনে সেটা আজও জানলাম না।
আমি তাছনিমের কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য দীর্ঘ নয় বছর যাবৎ অফেক্ষা করতেছি কিন্তু তার সাথে কোন যোগাযোগ করতে পারি নাই। তার বাসার ঠিকানা কেউ যানতাম না, তার ফোন সব বন্ধ।
তার সেই অভিশাপ আজও বয়ে বেরাচ্ছি।
"যদি তুমি জানতে, কতটা প্রেম জমেছে বুকে
যদি তুমি জানতে, কতটা ক্ষত তোমারে অসুখে।
তবে খুজতে না ভুল ভুলের ঠিকানায়।
আমার যাপসা চোখের বারান্দাতে দ্বীর্ঘশ্বাসের জল
আমার মুঠোয় বন্ধি এখন শুধুই স্মৃতির শতদল।"
-মিনার
কাউকে ছেড়ে থাকা
অনেক কষ্টের,
কিন্তু তার থেকে বেসি কষ্টের হলো আসবেনা জেনেও তার জন্য অফেক্ষা করা..... 😢😢😢
Leave অভিশাপ to:
Read more #cruse posts
Best Posts From rezanoor
We have not curated any of rezanoor's posts yet. But you can encourage our curation team to review posts by visiting them regularly and by referring other readers. Because we give priority to frequently read content.