বন্ধুত্ব।
ঐদিন ও আমাকে ডাকেনি। না ডেকেই চলে গিয়েছিল। প্রথমে তো ভেবেছিলাম আমার উপর হয়তো রাগ করে আছে কোনো কারণে। মাঝে মধ্যেই এমন হয় আমার অজান্তেই আমার সাথে রাগ করে থাকে। এই গুলো বড় বিষয় না , মাঝে মধ্যেই এমন হয়। কিন্তু এবারেরটা একটু অন্যরকম ছিল হয়তো। যদিও আমি প্রথমে কিছুই জানতাম না। পরে যখন যোগেযোগ করার চেষ্টা করলাম তখন জানতে পারি ও আমার উপর রাগ করে আসে। প্রথমে বেপারটাকে তেমন গুরুত্ব দেয়নি। কিন্তু পরে উপলব্ধি করতে পেরেছি বিষয়টাকে দেখা উচিত।
যেহেতো ফোন এ যোগেযোগ করার কোনো রাস্তা ছিলোনা সেহেতো এখন বাসায় গিয়েই যোগাযোগ করতে হবে। এর আগে ওদের বাসায় ভিতর যায়নি। শুধু বাসায় সামনে থেকে ফিরে এসেছিলাম। কিন্তু ওর আম্মুকে ভালোভাবেই চিনতাম। আর আন্টিও আমাকে ভালোভাবে চিনতো। ঐদিন শুক্রবার ছিল। আঙ্কেলও ঐদিন বাসায়। বিকাল ৪ টার দিকে বের হই ওর বাসায় উদ্যেশে। বাসার সামনে গিয়ে একটু দাঁড়ায় খুজছিলাম ভিতরে আছে কিনা। পরে দেখি বাসায়ই আছে। দরজায় নক দেয়ার পর আন্টি দরজা খুলে। উনাকে রেদওয়ান এর কথা জিজ্ঞেস করলে উনি বলে ও নাকি ঘরে নেই। তখন আমি আর কিছুই না বলে আন্টি সালাম দিয়ে চলে আসি। আমি তাদের ঘরে ঢুকার আগেই রেডিয়ানকে জানালে দিয়ে দেখেছিলাম , ও হয়তো লক্ষ করেনি। হয়তো রেদওয়ানই আন্টিকে মানা করেছে ওর কথা না বলতে।
সত্যি কথা বলতে এমনটা ও কখনোই করেনি। এমনকি কেনই বা ও এত রাগ করে আছে সেটাই আমি ঠিক জানিনা। সব কিছুই যেন উলোট পালট লাগছিলো। তারপর থেকে ওর সাথে আর যোগাযোগ করার চেষ্টা করিনি। যদিও স্কুল এ মাঝে মধ্যে দেখা হতো কিন্তু ও কেমন জানি আমাদের এড়িয়ে চলতো। ওর সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছিলাম কিন্তু কেউ যদি আপনাকে এড়িয়ে চলে তাহলে তো আপনি জোর করে থাকে আপনার দিকে মনোযোগী করতে পারবেন না। এভাবেই প্রায় ২ মাস কেটে যায়।
একদিন হটাৎ খবর আসে ওর আব্বুর খুলনায় ট্রান্সফার হয়েছে। প্রায় ১০ বছর আগে যখন প্রথমবার ঢাকায় এসেছিলাম তখন ওই ছিল আমাদের সর্ব প্রথম বন্ধু। ওই ক্লাস ১ থেকে আজ পর্যন্ত ওর সাথে বন্ধুত্ব। ওদের চলে যাওয়ার খবর ও আমাকে বলেনি। অন্য একটা বন্ধুর কাছ থেকে জানতে পারি ওর আব্বুর ট্রান্সফার হয়েছে , স্কুল থেকে TC নিয়ে আগামী মাসেই চলে যাবে। এ কথা শুনার পর , আমি সত্যিই ভেঙে পড়েছিলাম। তারপরদিন সকালে ওর বাসার সামনে দাঁড়িয়ে ওর বের হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। একটু পরই বের হবে , স্কুল আছে আজকে। ১০ মিনিট অপেক্ষা করার পর ওর বাসা থেকে বের হয়। তখনি আমি ওকে জড়িয়ে ধরে কান্না করে দেই। ১০ বছর ধরে আপনি একসাথে আছেন , হটাৎ যদি তাকে ছাড়তে হয় অবশ্যই তার থেকে কষ্টের কিছু হয়না। তখন ও আমাকেই জড়িয়ে ধরে কান্না করে দেয়। আসলে বন্ধুদের মাঝে ঝগড়া রাগারাগি , এমনকি মারামারিও সাধারণ বিষয় তারজন্য যদি বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যায় তাহলে সেটা অবশ্যই সত্যি করে বন্ধুত্ব ছিল না।
তারপরের মাসেই তারা চলে যায়। আজ তারা গিয়েছে প্রায় ২ বছর। গতকয়েকদিন আগে কলেজ এ ভর্তির সময় আমাকে কল দিয়ে বলে সে ঢাকায় চলে আসবে। সেই মুহূর্তটা দেখা মতো ছিল। দুইজনই অনেক খুশি ছিলাম। আজ সে ঢাকায় প্রায় ২ মাস। দুই জন একসাথেই একই কলেজে। প্রথমে ওর সেলেক্শন এ অন্য কলেজ এসেছিলো কিন্তু পরে সরাসরি কলেজ এ যোগাযোগ করে দুইজন একসাথেই কলেজে ভর্তি হই। আমার কাছে মনে হয় মারামারি , ঝগড়া , বিদ্বেষ ইত্যাদি ছাড়া বন্ধুধুত্বের পূর্ণতা পায়না , আবার সেই ঝগড়ার জন্যই বন্ধুত্ব নষ্ট হয়ে যাবে সেটার ও কোনো মানে হয়না।
Leave বন্ধুত্ব। to:
Read more #hive-190212 posts
Best Posts From Shemanto
We have not curated any of shemanto72's posts yet. But you can encourage our curation team to review posts by visiting them regularly and by referring other readers. Because we give priority to frequently read content.
More Posts From Shemanto
- আমাদের মহাবিশ্ব।
- বছর ঘুরে আবারো গ্রামের দেখা।
- SOL's next move .
- Is hive on 1$ impossible ?
- অসুস্থতা।
- নিজের প্রতি ভালোবাসা।
- জীবনের উত্থান ও পতন।
- বছরের সেরা সময় ( রমজান )
- Remembering the past.
- This journey may never end .
- আকাশ ভরা তারায় ।
- গোধূলি বিকেলে।
- বছর ঘুরে।
- অন্তহীন পথচলা।
- To the home .
- Is That was the last day ?
- বন্ধুত্ব।
- The day of Ramadan .
- The day of joy
- পরবর্তী ধাপ।