"শান্তিনিকেতন"
অভি, সৌভিক,শুভ, আমি, সৌরভ, পূজা (ছবি তুলেছে অমিত)-
দুই ভাই (শুভ আর ওর মাসির ছেলে সৌরভ)-
প্রিয়,
পাঠকগণ,
আশাকরি আপনারা সবাই ভালো আছেন।
আজ আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো আমার শান্তিনিকেতন বেড়াতে যাওয়ার গল্প। আমার বিয়ের পর শুভর আর ওর বন্ধুদের সাথে ওটাই আমার প্রথম বেড়াতে যাওয়া। ইতিমধ্যে যেহেতু অমিত এরও বিয়ে হয়ে গিয়েছিল তাই আমারও একজন সঙ্গী হয়েছিল।না হলে ছেলে গুলোর মাঝে আমি একাই মেয়ে ছিলাম।
অনেক ভাবনা চিন্তা করে আমরা শান্তিনিকেতন জায়গাটা ঠিক করলাম, ওখানে মামাবাড়ি আছে তাই।মাসি বাড়ি শান্তিনিকেতন,আর মামা থাকে প্রান্তিক। প্রান্তিক থেকে শান্তিনিকেতন,বিশ্বভারতী কাছে হয় তাই মামার সাথে কথা বলে ওখানে থাকার ব্যবস্থা করা হলো। মামী তখন দিল্লী ছিলো তার মেয়ের কাছে, অগত্যা আমাদেরই রান্নাবান্না করে খেতে হবে।সেটাই ফাইনাল হলো।
ইচ্ছে ছিলো একবার বিবাহবার্ষিকীর দিন কঙ্কালীতলা মন্দিরে পূজো দেবো, ভাবিনি সেই বারই পূজো দিতে পারবো। শুভদের যেহেতু ২৩ আর ২৬ জানুয়ারি ছুটি থাকে আর সেবার মাঝে একটা রবিবারও ছিলো তাই আর ২ দিন বেশী ছুটি নিয়ে বেশ কয়েক দিনের ছুটি কাটিয়ে এসেছিলাম আমরা।শিয়ালদহ থেকে এক্সপ্রেস ট্রেন এ করে আমরা প্রান্তিক এ নেমে দেখলাম মামা দাড়িয়ে আছে আমাদের জন্য।
প্রান্তিক স্টেশন এ নামার পর-
হেঁটে হেঁটে চললাম মামাবাড়ি -
মামার বাড়ি খুব বেশি দূরে নয় সুতরাং হেঁটে যেতে সবাই রাজী হলো। ওখানে গিয়ে ফ্রেশ হলাম, সেদিনের খাওয়ার ব্যবস্থা মামা একজনকে দিয়ে করিয়ে রেখেছিল। খেয়ে একটু রেস্ট নিলাম,এরপর সন্ধ্যাবেলা ওরা বাইরে গেলো আসার সময় রুটি নিয়ে এসেছিল সেটাই রাতে খেলাম। পরদিন মামা টোটো ঠিক করে দিলো,প্রথমে কঙ্কালীতলা পূজো দিয়ে শান্তিনিকেতন ঘুরবো। সেখান থেকে আবার বাড়ি নামিয়ে দেবে। সেই কথা মতো আমরা সকাল বেলা স্নান করে রেডি হয়ে রওনা দিলাম।
কঙ্কালীতলা গিয়ে দেখি খুব বেশি ভিড় নেই, লাইনে দাঁড়িয়ে পূজো দিলাম, ভীষণ ভালো লাগলো যেন স্বপ্নপূরণ।মন্দিরে বসেও একটা অদ্ভুত শান্তি পেলাম।
পূজো দেওয়ার পর-
সেখান থেকে বেরিয়ে একটা দোকানে টিফিন করে আমরা শান্তিনিকেতন রওনা দিলাম। ওখানে ঘুরে ঘুরে অনেক কিছু দেখলাম।রবীন্দ্রনাথের সমস্ত শিল্পকলা যেখানে সংরক্ষণ করে রাখা আছে সেই মিউজিয়াম, তার ব্যবহার করা গাড়ি,তার লেখা সমস্ত বই, নোবেলটা চুরি হয়ে যাওয়ার পর যে ঘরে নোবেলটা রাখা ছিলো ঘরটা এখন বন্ধ।যেখানে বসে তিনি ক্লাস করাতেন,সেই গাছের তলা,সমস্ত কিছু দেখে যেনো মনটা অন্যরকম হয়ে যায়।ওখানকার পরিবেশ একদম অন্যরকম।চারিদিকে ফুলের বাগান দেখে ভীষণ লেগেছিল। ভেতর ফোন নিয়ে ঢুকতে দেয়না। তাই ফটো তোলা সম্ভব হয়নি।সব জায়গা ঘুরে সন্ধ্যা বেলা বাড়ি ফিরলাম।
মিউজিয়ামের বাইরে আমি আর পূজা (অমিতের বউ)-
পরদিন মাসি বাড়ি গেলাম সেখানে একদিন থেকে আবার ফিরে এলাম মামা বাড়ি। ওখানে আমাদের ব্যাগ ছিলো।সব কিছু গুছিয়ে নিয়ে পরদিন বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দিলাম। দেখতে দেখতে দিন কেটে গেলো। তবুও স্মৃতির পাতায় প্রতিটা মূহুর্ত লেখা হয়ে থাকলো আমাদের।
বাড়ি ফেরার দিন-
Leave "শান্তিনিকেতন" to:
Read more #hive-174578 posts
Best Posts From Sampa Biswas
We have not curated any of sampabiswas's posts yet. But you can encourage our curation team to review posts by visiting them regularly and by referring other readers. Because we give priority to frequently read content.
More Posts From Sampa Biswas
- "বৃষ্টিভেজা ফুলের ফটোগ্রাফি"
- "কিছু জিনিস পুরোনোই ভালো "
- "নতুন বছরে নতুন করে পথচলা, পুরোনো স্মৃতির হাতধরে "
- "জীবনে সব ভালোবাসার সংজ্ঞা একই রকম হয় না"
- "সম্পর্কের টানপোড়েন মানুষকে ভেতর ভেতরে শেষ করে দেয়"
- "নিজের জন্য গর্বিত মন সর্বদা নিজের ভালো থাকারই সঙ্গী হয়"
- "প্রকৃতির শক্তি বোঝার ক্ষমতা মানুষের নেই, একদিনে হাজার হাজার মানুষকে গৃহহীন করে দিলো"
- "প্রকৃতির রূপ পরিবর্তন হতে একমুহুর্তই যথেষ্ট"
- "ইয়াসের পূর্বাভাস জানিয়ে দিচ্ছে সাবধানে থাকুন"
- "শহুরে জীবনে বাইরে,সবুজের মাঝে,নির্জনতায় যেন প্রকৃত শান্তি লুকিয়ে আছে"