বাংলা নাটকের ইতিকথা!
Source
নব্বই শতক থেকেই বাংলাদেশে নাটকের জনপ্রিয়তা শুরু হয়।টেলিভিশন ঘরে ঘরে না পৌঁছালেও,যাদের বাড়িতে থাকতো সবাই সেখানে ভিড় জমাতো।এটাও দেখা যেত বাজারের কিছু দোকানে টাকার বিনিময়ে টেলিভিশন দেখতে দিত।ব্যাপারটা মজার হলেও সত্য।তবে এখন সেরকম কোন নাটক চোখে পরে না বললেই চলে সব একঘেয়েমি। কোন কাহিনী নেই।চিরায়ত কিছু সাধারণ ভালোবাসার কাহিনী।তবে হুমায়ুন আহমেদ স্যার যখন ছিলেন তখন তার একটা নাটকের যথেষ্ট চাহিদা ছিলো।হাস্যরসের মাধ্যমে তিনি সমাজের অনেক ভুল স্পষ্টভাবে তুলে ধরতেন।কিছু ভালো নাট্যকার দ্বারা যে নাটক নিমির্ত হচ্ছে না,তাও একেবারে ঠিক না।নিজের দেশের ভালো কাজকে অবশ্যই উৎসাহ দিতে হবে।নইলে ভবিষ্যতে যে আরও ভালো কিছু কাজ দেখতে পাবো,সেটা আশা করা যাবে!!সম্প্রতি একটি নাটক দেখে বেশ ভালোই লাগলো। প্রথমে পুনর্জন্ম দ্বিতীয় পর্ব দেখে শুরু করেছিলাম।পরে বুঝলাম প্রথম পর্ব না দেখলে দ্বিতীয় পর্ব কিছুই বুঝা যাবে না।তাই প্রথম থেকেই শুরু করলাম।তবে এরকম একটা নাটক অনেকটা দিন পর আবার নাটকপ্রীতি নিয়ে আসছে।
নাটকের প্রধান চরিত্র রাফসান সাহেব(নিশো)।এখানে পেশায় সে একজন দেশের নামকরা শেফ।তার অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে আছেন নীলা হক(মেহজাবিন)।রাফসানের বোন (নওসাবা) আর তার ড্রাইভার নুরু।শুরু হয় এই কয়েকটি চরিত্র দিয়ে।নাটকের প্রথম পর্বে দেখা যায় নুরু এক মেয়েকে (রাবেয়া) দেখে অবাক হয়ে যায় যে, সে দেখতে তার স্যারের ম্যাডামের মতো,যে কিনা কয়েক বছর ধরে নিখোঁজ আছে।তাছাড়া নীলা হকের নামে অনেক টাকা ফিক্সড ডিপোজিট থাকে,সেই টাকার লোভেই মুলত নুরু এক ছক কষে!এভাবে রাবেয়া নীলা হক সেজে রাফসানের জীবনে আসে।এবং নীলা শোকে কাতর রাফসান রাবেয়াকে পেয়েই ভীষন খুশি থাকে, খটকা লাগে শুধু তার বোনের। সে ভিন্নভাবে নীলা ছদ্মবেশে রাবেয়া জেরা করে বা সন্দেহের দৃষ্টি রাখে।এক সময় ধরেও ফেলে। কারণ নীলা হকের একটা জন্মদাগ ছিলো যা দ্বারাই বোঝা যেত যে রাবেয়া নকল কিন্তু না!সেখানে রাফসানের দেয়া চিরকুটের মাধ্যমে সে এই জন্মদাগের নকল বানিয়ে আসল নীলা হক সাজে।শেষে এসে অসাধারণ এক টুইষ্টের সামনে এসে দাড়াই আমরা।নীলা হক আসলে খুন হয়েছে রাফসানের কাছেই।এবং তার লাশ গুম করার জন্য সে খুব ঠান্ডা মাথায় কেটে টুকরো টুকরো এক বিয়ের অনুষ্ঠানে খাওয়া দেয়!কিযে অদ্ভুত!!১ম পর্বের শেষে দেখায় নুরু কে মারার জন্য ব্রেক কেটে এক জায়গায় পাঠিয়ে দেয়।যার থেকেই ২য় পর্বের আর্বিভাব।
যদি অভিনয় নিয়ে কথা বলি তাহলে নিশোর অভিনয় এক কথায় অসাধারণ। প্রধানত তার অভিনয়ের কারণেই নাটকের মূল থ্রিলার ভাবটা সব সময় বিরাজমান থাকে।রাফসান হিসেবে তার চাহনি,তার কথা বলার ভঙ্গি,ফেসিয়াল এক্সপ্রেশন সব মিলিয়ে কোন কথা হবে না।নাটকের মাঝে কিছু কিছু সময় তার চাহনি দেখলে তো ভয়ে কলিজা কেপে উঠে!আর এটাই তার চরিত্রের সফলতা।
এবার নাটকের ২য় পর্বে ফিরে আসি। প্রথমেই দেখানো হয় নুরু নিখোঁজ। তাকে নিয়ে পুলিশের তদন্ত শুরু হয়ে গেছে।রাফসান মুলত নুরুকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলো যাতে রাবেয়া ভয় পায় ও একা হয়ে পরে। অন্যদিকে রাবেয়া ও খুব হতাশ ছিলো কারণ নুরুকে খুঁজে না পাওয়া গেলে সে কি করবে,কেননা তাকে এখানে এনেছেই নুরু।তবে ২য় পর্বের নতুন চরিত্র নিলয়(খাইরুল বাশার)।সে পেশায় ডাক্তার কিন্তু তার রান্নার প্রতি তার প্রবল আকর্ষনের কারণে শেফ পেশাটিকে বেছে নিয়েছে।এরপর সে রাফসান হকের রেস্টুরেন্টের একজন শেফ নিজের ক্যারিয়ার শুরু করে।সে রাফসান হকের কাছ থেকে তার মতোই রান্না শিখতে চায়।এবং তার পারদর্শীতার মাধ্যমেই রাফসানের পছন্দের শিক্ষার্থী হয়ে উঠে।অন্যদিকে রাফসান বিভিন্নভাবে রাবেয়া কে ভয় দেখায়।এর মাঝে রাফসানকে পুলিশ ফোন করে জানায় যে নুরুকে পাওয়া গেছে।সে গুরুতর আহত হয়ে হসপিটালে ভর্তি আছে।
এবার যেটা হয়,রাবেয়া রাফসানের বোনের কাছে সব সত্যটা বলে দেয় যাতে প্রাণে বাচে আর আসল নীলাকে তার ভাই হত্যা করেছে কারণ সে দেখেছে নীলার একটা আংগুল তার কাছে আছে।প্রথমে বিশ্বাস না করলেও পরে সব শুনে তার ভাইকে পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয় নওসাবা।কিন্তু পুলিশ আঙ্গুলের ডিএনএ টেষ্ট করে দেখে তা নীলা হকের না।অতএব রাফসান নির্দোষ।এবার রাবেয়াকে পুলিশ গ্রেফতার করে।আর নিলয়কে দেখানো হয়েছে সে হলো হচ্ছে নিলার এক্স বয়ফ্রেন্ড।নীলাকে নিলয় খুব ভালোবাসত কিন্তু নীলা চায়নি রাফসানকে ঠকাতে।তাই নিলয়ের সাথে সব সম্পর্ক শেষ করে রাফসানের কাছে গিয়েছিলো।যখন দেখলো যে রাবেয়া তাকে চিনতে পারছে না,তখনি তার সন্দেহ হয়।এবং রাফসান সাথে থেকে বুঝতে পারে যে নীলাকে সেই মেরেছে।এর বদলা হিসেবে যখন নিলয় রাফসানকে মারতে যাবে সেই সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পরে।আর এটা রাফসানের নতুন চাল।সে জানতো না যে সে নীলার পূর্ব পরিচিত।যেহেতু নিলয় অনেক কিছুর সাক্ষী তাই তাকে সরিয়ে ফেলার জন্য বিষাক্ত মাশরুমের সুপ খাওয়ায় ছিলো।আর রাবেয়া ছলে জেল থেকে পালায়।
যারা থ্রিলার পছন্দ করে তাদের জন্য অবশ্যই দেখা উচিৎ। তবে থ্রিলার বলতে গেলে আমরা বেশীরভাগ হলিউড, বলিউডের থ্রিলার মুভিকেই বুঝি।যদিও বাংলাদেশে অনন্ত জলিল ছাড়া সেরকম কোন কিছু টাইপ মুভি বানাতে পারেনি!!তারপরে যদি থ্রিলার কোন নাটকের সাথে তুলনা করতে যাই, তাহলে সেটা কিছুটা হাস্যকরই হয়ে যায়!সেদিক থেকে আমি অবশ্যই পুনর্জন্ম নাটক কে সব কিছু থেকে এগিয়ে রাখবো।মানে যাই হোক টান টান উত্তেজনাটা সব সময় ধরে রেখেছে এই নাটকের প্রথম দুই পর্বে। তবে হ্যাঁ রাফসান সাহেবের রান্না এখনো শেষ হয়নি। তাই আমাদের কে অপেক্ষা করতে হবে এর তৃতীয় পর্বের জন্য।
Leave বাংলা নাটকের ইতিকথা! to:
Read more #banglanatok posts
Best Posts From Emerald
We have not curated any of rodmila's posts yet. But you can encourage our curation team to review posts by visiting them regularly and by referring other readers. Because we give priority to frequently read content.