একদা বৃষ্টিস্নাত শীতল দিনে।
প্রতিদিন সূর্যি মামা সবার আগে উঠে জানান দেয় যে সকাল হয়ে গেছে!সময় গড়িয়ে যখন দুপুর!তখন সূর্যি মামা ঠিক মাথার উপরে বসে থাকে।অলস বিকেলে তাকে পশ্চিমে হেলে থাকতে দেখি এরপর আস্তে আস্তে কোথায় যে হারিয়ে যায়!রাত্রির কয়েক প্রহরেও তার আর দেখা পাওয়া যায় না। আবার ঠিক সকালে এসেই হাজির হবে।হাজার চেষ্টা করেও কেউ সূর্যি মামার আগে আর উঠতে পারে না!এভাবে এক অদ্ভুত নিয়মানুবর্তী জীবন কাটাচ্ছি।।
বেশ কিছুদিন হলো 'ভালো লাগে না' রোগে না ধরছে।আপেক্ষিকভাবে কিছুই ভালো লাগছে না।এত রঙিনের মাঝে নিজেকে বড্ড সাদাকালো লাগছে।আসলে কিছু কিছু মুহূর্ত এতটাই বাস্তব যে সেখানে দিবা স্বপ্ন দেখা খাটে না তখন।বাস্তবতা যে আসলেই কঠিন আর হতাশাময়।জীবনের একেবারে শুরুতে মানুষ যখন প্রথম হাঁটতে শিখে,তখনই সে জীবনের প্রথমবারের মতো বাস্তবতার মুখোমুখি হয়।চলার পথে হোঁচট খেতে শিখে।আবার হুর মুর করে পরে গিয়ে আবার উঠে দাড়াতে শিখে।হাটতে পারে কংক্রিটের ছোট ছোট অজস্র ধুলিমাখা রাস্তার উপর দিয়ে।তখনের ওই ছোট্ট চলার পথটা কিন্তু আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে।আর আমরা খাপ খাইয়ে কিভাবে জীবনের পথে চলতে হয়
সেই চেষ্টাই করে যাই অবিরাম। কখনো ইচ্ছেমতো বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে!আবার কখনো বা খেয়ালে বেখেয়ালে।সর্বশেষ কথা হলো যেভাবে হোক জীবকে মেনে নেয়া।এটা যেমন সহজ না আবার খুব একটা কঠিনও না।মনের কথা লিখতে লিখতে হঠাৎ খেয়াল হলো যে ঝুম বৃষ্টি নেমেছে!আজকে কি বৃষ্টি হবার কথা ছিলো?নাকি প্রকৃতির ইচ্ছে হয়েছে,তাই বৃষ্টি হয়ে ঝড়ে পরছে!বৃষ্টির টাপুরটুপুর ছন্দে মনে হলো মন ভালো হওয়া শুরু করেছে।যেহেতু মন হঠাৎই ভালো হয়ে গেছে, তাই সিধান্ত নিলাম যে মনকে পুরোপুরিভাবে মেরামত করবো। আজকে নিজেই নিজেকে ট্রিট দিবো।নিজেকে নিয়ে ঘুরতে যাবো।ব্যাপারটা এমন 'যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে,তবে একলা চলোরে'।অন্য সময় হলে হয়তো কোন বন্ধুদের খবর দিতাম!এখন হয়তো সবাই ব্যস্ত তাই নিজেকে নিয়ে বেড়েই পরলাম।
বাসার পাশে হাঁটার একটা রাস্তা আছে।বৃষ্টির তীব্র বর্ষণের ফলে রাস্তার কালো পিচ আরো উজ্জ্বল রঙ ধারণ করেছে।খালি পায়ে হেঁটে যেতে পারলে বেশী ভালো লাগতো।আশে পাশের মানুষ কি বলবে ভেবে নিজেকে সংযত করলাম।হয়তো কোন একদিন এই ইচ্চাটাকেও পূরণ করবো।হাঁটার গতি কিছুটা শ্লথ করে পরিবেশটাকেই বেশী উপভোগ করছিলাম।চোখ যেন চারপাশের সবুজ দেখে মস্তিষ্ককে এক গভীর প্রশান্তি দিচ্ছিলো।আজকে যেহেতু নিজেকে ট্রিট দিবো তাই পছন্দের তালিকায় প্রথম মানে ফুসকা খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম।রাস্তার শেষ মাথায় একটা নামকরা দোকান আছে।বাদশাহ ভাইয়ের ৪৮ প্রকারের চায়ের দোকান।মূলত চায়ের দোকান হলেও বিকেলে ফুসকা-চটপটিও বিক্রয় করা হয়।ফুসকা খাওয়ার পরে বাদশাহ ভাইয়ের বাদশাহী চা হলেও মন্দ হয় না!অতএব প্রথমে চলে আসলো আমার ফুসকা তারপর পর্যায়ক্রমে চা।অন্যসময় বন্ধুরা থাকলে কাড়াকাড়ি লেগে যেত।আজকে কোন কাড়াকাড়ি, কোন হৈচৈ নেই।আরাম করে নিজের উদরে পুরে ফেললাম একের পর।এবার চলে আসলো বাদশাহ ভাইয়ের শাহী চা।ওনাদের চায়ের মূল্য স্বাভাবিক থেকে কিছুটা বেশী।পরিমাণে কিছুটা কম।কিন্তু চায়ের স্বাদটা অতুলনীয়। চা প্রেমিক যারা আছে তাদের পছন্দ হবার মতোই।মাটির কাপে পরিবেশনটাও সুন্দর ছিলো।যেটা এখন সচরাচর সব জায়গায়ই দেখা যায়।বৃষ্টিস্নাত শীতল আবহাওয়ায় চা টা বেশ উপভোগ্য ছিলো।অবশেষে উদরপূর্তি শেষে বাদশা ভাইয়ের মূল্য পরিশোধ করে নীড়ে ফেরার তাগিদে পথ ধরলাম।হাঁটতে হাঁটতে খেয়াল করলাম মন আমার বেশ ভালো।এভাবেই কাটিয়ে দিলাম নিজের একান্ত একটি বিকেল বেলা।
Leave একদা বৃষ্টিস্নাত শীতল দিনে। to:
Read more #food posts
Best Posts From Emerald
We have not curated any of rodmila's posts yet. But you can encourage our curation team to review posts by visiting them regularly and by referring other readers. Because we give priority to frequently read content.
More Posts From Emerald
- বন্ধুত্ব ..।
- একদা বৃষ্টিস্নাত শীতল দিনে।
- গল্পটা যখন পদ্মাসেতুর
- ৩০ গোডাউন রিভারভিউ পার্ক,বরিশাল
- Movie review : হাওয়া (২০২২)
- Movie Review -Ratsasan(2018)
- একটি সুন্দর দিন!!
- নৈতিকতা ও সমাজ!!!
- Thor: Love & Thunder(2022)
- Movie Review: 'বাবা বেবি ও'
- 'রবীন্দ্রনাথ এখানে কখনো খেতে আসেন নি'
- আষাঢ়ের গল্প।
- শহুরে মেলা।
- ঝিরিঝিরি বৃষ্টির দিনে...
- চন্দ্রদ্বীপের কন্যা আমি।
- নিয়তি!!!
- Doctor Strange In The Multiverse Madness(2022)
- মানুষের গল্প
- অসুস্থ ঢাকা শহর!!!
- BDC CONTEST- My favourite book from childhood!!!!!