''অন্তু'' (শেষ পর্ব)।
অন্তু এইমাসে খুব বেশিই অসুস্থা আর এইদিকে মিডটার্ম পরীক্ষার ও মাত্র ২ দিন বাকি।অন্তুর এইবারের অসুস্থতায় তাকে হসপিটালে ভর্তি করাতে হয়েছে, প্রতিমাসেই তাকে হসপিটালে নিয়ে যেত কিন্তু কোনবারই ভর্তি করাতে হয়েছে সেই কথা লিরা শুনেনি, অন্তু প্রায় ২ দিন পর হসপিটাল থেকে বাসায় ফিরেছে যা দেখে লিরা অন্তুকে দেখতে পেরে মনে হল যেন তার বুকে মনে থাকা সকল কালো মেঘ সরে গেল।
আজকে লিরার পরীক্ষা সে তেমন ভাল প্রিপারেশন নিতে পারেনি অন্তুর অসুতস্থতার তার চিন্তায় জন্য তার দিনগুলাও তেমন ভাল যায় নি। সে বাসা থেকে স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হতেই অন্তুকে বাসা থেকে বাসা থেকে বের হতে দেখল যে সে অসুস্থতা নিয়ে পরীক্ষা দিতে যাইতেছে দেখে লিরা তা দেখে একদম অবাক লিরা অন্তুর খোঁজ খবর নিল এবং লিরা বল্লযে পরীক্ষা শুরু হয়ে যাবে বেশিক্ষন নেই চল একসাথে যাওয়া যাক,লিরা অন্তুর সাথে রাস্তার একপাশ দিয়ে হাটতেছে আর অন্তুর দিকে অবাক দৃষ্টিতে অন্তুর মুখের দিকে বারে বারে তাকাইতেছে কিন্তু অন্তুকে দেখে অনেকটাই সুস্থ মনে হচ্ছে অন্তু যে এই কয়দিন এত বেশি অসুস্থ ছিল তার চেহেরায় তার কোন ছাপ নেই এই বিষয়টা অন্তু লক্ষ্য করল কিন্তু এই নিয়ে লিরাকে কিছুই বল্লনা। যখন তারা স্কুলের গেইটের সামনে পোঁছাল তখন অন্তু লিরাকে কিছু বলার জন্য তার সামনে দাড়াল লিরা বুঝতে পরল যে অন্তু কিছু বলতে চায় কিন্তু পরীক্ষা শুরুর আর অল্প কিছু সময় বাকি থাকায় সে বল্লযে পরীক্ষা শুরু হওয়ার তহ বেশি সময় বাকি নেই পরীক্ষার পর কথা বলি আমরা! অন্তু ও তার কথায় সম্মতি জানিয়ে বল্লযে তাহলে পরীক্ষার পর স্কুল গেইটের সামনে থেকো, লিরা ও এতে সম্মতি জানাল।
পরীক্ষা শেষে স্কুলের গেইটে প্রায় আধা ঘন্টা হল লিরা যে দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু অন্তুর কোন খবর নেই লিরা স্কুলের ভিতরে গিয়ে স্কুলের প্রতিটি জায়গায় অন্তু খুজ করে বে ড়াল কিন্তু অন্তুর কোন খবর নেই , ক্লাসে অন্তুর রোল নং সামনের সারিতে হওয়ায় তার পরীক্ষার রুম অন্য রুমে পড়েছিল লিরা ওই রুমে গিয়ে অন্তুর খোঁজ করতে থাকল আর
তখনি তার সাথে স্কুলের দপ্তরি রফিক ভাই এর সাথে দেখা ওনাকে অন্তু সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতেই ওনি বল্লযে পরীক্ষার মাঝখানেই অন্তু খুব বেশি অসুস্থ হয়ে যায় তাকে রিক্সা করে হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, এই কথা শুনার পর লিরার যেন মনে হল তার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ল সে জলদি করে হসপিটালে গেল এবং দেখল যে অন্তু আইসিও এর বেডে শোয়া আর তার শরীরে রক্তের সেলাইন দেওয়া হচ্ছে আর অন্তুর মা ওর পাশেই বসে কান্না করতেছিল আর অন্তুর বাবা হস্পিটালের ব্লাড ব্যাংক রুমে রক্ত সংগ্রহ করার জন্য চেস্টা করতেছে , লিরার আইসিও এর ভিতরে যেতে ভয় করায় সে আর ভিতরে যেতে চাইল না বিধায় বাইরেই বসে অন্তুর দিকে কাচের গ্লাসের দেওয়ালের এই পাড় থেকে তাকিয়ে রইল।
সকাল থেকে বিকাল হয়ে গেছে লিরা আইসিও এর বাইরেই বসে রইল,লিরার আম্ম-আব্বু অন্তুর অসুস্থতার কথা শুনে হসপিটালে এসে লিরাকে দেখল সে বাইরে বসে আছে তারা লিরাকে অইসিওর ভিতরে অন্তুর সাথে দেখা করার জন্য অনেকবার নিয়ে যাওয়ার জন্য চেস্টা করল কিন্তু লিরা যেতে চাইল না , তার মনে শুধু এইটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে, যে অন্তুর কি হয়েছে ! তার জন্য রক্তের কেন প্রয়োজন! তাকে অন্তু কি বলতে চেয়েছিল! এই প্রশ্নগুলি তার মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছিল।
অন্তুর অবস্থা শুধু ক্ষনে ক্ষনে খারাপের দিকেই যাইতেছে কিছুক্ষন পরপর ডক্তার এসে তাকে দেখে যাইতেছে ,এইভাবে বিকাল থেকে সন্ধ্য হয়ে গেল লিরা তার বাবা-মা এর সাথে বাসায় চলে আসল সে আসতে চাইতেছিল না, কিন্তু তার বাবা-মা তাকে বাসায় চলে আসতে বলার কারণে সে না করতে পারে নি। বাসায় এসে তার যখন রাতের খাবার খেতে একসাথে ডাইনিং টেবিলে বসল মা জানাল যে অন্তু থ্যালেসেমিয়ায় আক্রান্ত, তিনি হতাশাগ্রস্ত মনে বলতেছিলেন ছেলেটা কত হাসিখুশি তাকে দেখলে কি বুঝা যায়, যে সে থ্যালেসেমিয়ার মত একটি মরণঘাতি রোগে আক্রান্ত, লিরা এই কথা শুনা মাত্রই মনে হল তার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল আর তার চোখের কোনায় জল এসে গেল তার বাবা-মা বুঝের আগেই রাতের খাবার খাবে না বলে তার রুমে চলে আসল আর চোখের কোনায় জমে থাকা জল ঝড়তে থাকল । সে তখন বুঝতে পারল যে অন্তু তাকে কি বলতে চেয়েছিল কিন্তু সেটা সে লিরাকে বলে ওঠার আগেই লিরার সাথে তার আর দেখা করা হল না।
পরেরদিন সকাল থেকেই মুসল্ধারে বৃষ্টি পড়ছিল আর লিরা দক্ষিণের বারান্ধায় বসে মন খারাপ নিয়ে বৃষ্টি দেখতেছিল এর মাঝেই তার মায়ের মুঠোফোন্টা বেঝে উঠল লিরার আম্মু রান্নাঘরে থাকায় লিরাই ফোনটা রিসিভ করতে গেল সে দেখল অন্তুর আম্মর ফোন সে ফোন্টা রিসিভ করতেই অন্তুর আম্মু বলে উঠল অন্তু এর দুনিয়াতে নেই, সে পরপারে পার জমিয়েছে।
আমরা সবাইয়ের এই ছোট্ট জীবনে হয়ত কিছু কাছের মানুষ অয় করি তারা আমাদের জীবন থেকে চলে যায় কিন্তু সৃতিগুলো মনে দাগকেটে যায় যা কখনো মুছা যায় না।
অবশেষে অসংখ্য ধন্যবাদ শেষ অবদি থাকার জন্য।
Leave ''অন্তু'' (শেষ পর্ব)। to:
Read more #hive-190212 posts
Best Posts From Mahedy Hasan
We have not curated any of mahedyhasan's posts yet. But you can encourage our curation team to review posts by visiting them regularly and by referring other readers. Because we give priority to frequently read content.