মাতৃভূমির টান।
মাতৃভূমির টান
আমাদের সবারই একটা মাতৃভুমির জন্য একটা আলাদা টান থাকে। কেউই চায়না সে তার মাতৃভূমিকে ছেড়ে অন্য কোথাও চলে যাক। আমার ও তেমনি অনুভব হয়েছিল যখন আমি গ্রাম ছেড়ে শহরে চলে আসি। তখন ছোট ছিলাম তাই আরো বেশি কষ্ট পেয়েছিলাম। ঢাকায় আসার পর আমি কোনো ভাবেই মানিয়ে উঠতে পারছিলাম না। তাই কিছুদিন পরই আমি বাড়িতে গিয়ে ২ মাস কাটিয়ে আসি। শুধু আমি না আমার মাও ঠিক একই ভাগে ভোগছিলো। এটাকেই বলা বই মাতৃভূমির টান। আর এটা শুধু নিজের জন্মভূমির প্রতি হয়ে থাকে। আমি আমার জন্মভূমিকে অনেক ভলোবাসি। কেউ কেউ মুখে না করলেও কিন্তু তার মন থেকে সে অবশ্যই সে ভালোবাসে।
মাতৃভুমির টান এমন একটা টান যেটা কেউ তৈরী করতে পারেনা। সেটা আপনা আপনিই তৈরী হয়। যে যেখানে জন্ম গ্রহণ করবে সে সেই জায়গার প্রতিই অন্য রকম একটা টান অনুভব করবে। আমি আমার গ্রামকে অনেক ভলোবাসি। মাতৃভূমির প্রতি ভালোবাসাটা শুধু গ্রামের জন্য না দেশের জন্যও বটে। আমাদের মধ্যে যারা বিদেশ যায় একমাত্র তারই তাদের দেশ প্রেমকে অনুভব করতে পারে। আমরা আমাদের দেশের টান অনুভব করতে না পারলেও গ্রামের প্রতি টান অনুভব করতে পারি। আর এটাই দেশপ্রেম / মাতৃভূমির / জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসা ।
আমার গ্রাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া। আমার গ্রামের সুন্দর্য আমাকে মুগ্ধ করে। আমি আমার গ্রামের জন্য গর্ববোধ করি। আমি এখনও বাড়িতে গেলে ফিরে আসার সময় বুক ফেটে কান্না আসে। জানিনা এত কান্না কথা থেকে আসে। আমি বেড়ি থেকে ঢাকায় জীবনের বাসি সময় কাটিয়েছি। কিন্তু তবুও ঢাকা থেকে বাড়ির প্রতি টান হাজার গুন্ বেশি। কারণ সেটা আমার জন্মভূমি। আমি সারা জীবন আমার সেই জন্মভূমিকে ভালোবেসে যাব। তার যতই ভালোবাসি ততটাই কম মনে হয় ! গ্রামের যতটা স্মৃতি আছে সব গুলোকে আমি একে একে মনে করতে থাকি। আর অজস্রে কান্না করতে থাকি ,যখন বাড়ি থেকে ঢাকায় চলে আসি। সেই মায়ার সাথে অন্যকিছুর তুলনা করা যায় না।
আমার বাড়ির সাথে আমার অনেক স্মৃতি জড়িয়ে আছে। বাড়িতে গেলে আমার সব বন্ধুরা অপেক্ষায় থাকে। এটাই অনেক বড় একটা পাওনা। আমার জন্য তারা অপেক্ষা করে। বাড়িতে গেলে আমার জীবনটাই যেন বদলে যায়। এত সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ মনে চায় সব কিছু ফেলে সেখানে থেকে যাই। কিন্তু পরিবারের সাথে মাতৃভূমিকে ছেড়ে চলে আসতে হয়। আসলে এটা আমার যেমন জন্মভূমি তেমনি আমার বাবা , মার ও জন্মভূমি। আমার থেকে তারা বেশি কষ্ট পায়। সেটা বাহিরে প্রকাশ না হলেও ভিতরে সীমান্তহীন ভালোবাসা। বাড়ি থেকে আসার পর আমরা সবাই মনমরা হয়ে থাকি। যেটা আমাদের স্বাভাবিক কর্মজীবনের প্রভাব ফেলে।
আমার বাড়িতে অনেক বন্ধু আছে যাদের সাথে সেখানে আমি বেশির ভাগ সময় কাটাই। আমি যেদিন যাই সেইদিন বিকাল থেকেই ঘুরে ঘুড়ি শুরু করে দেই। রাতের বেলা আমাদের সাথে বাড়ির পাশের ব্রিজে গিয়ে বসে থাকা আর বিকালে বাড়ির ধান খেতে ঘুরতে যাওয়া , আমার শহরের জীবনে এটা স্বপ্নের মতো। আমাদের ধান ক্ষেতটা অনেক সুন্দর ,দুইপাশে ধানক্ষেত্র আর আর মাঝখান দিয়ে সড়ক। সড়ক বলতে পাকা রাস্তা না , লাইল বলে যেটাকে। আমাদের গ্রামে ক্ষেতের মাঝখান দিয়ে যাওয়া রাস্তাটাই হলো লাইল ।
আমরা গত বছর যখন বাড়িতে ছিলাম। তখন রমজানের সময় তারাবির নামাজ পড়তে গিয়ে ৬ অথবা ৮ রাকাত নামাজ পরে , একটু সামনের ব্রিজ গিয়ে বসে থাকি। সবাই একসাথে বসে আড্ডা দেই। কোথায় পাবো সেই আনন্দ এই শহুরে জীবনে। কিন্তু এখন একটা কথা বলতেই হচ্ছে , এখন যদি আমাকে বলে আমি বাড়িতে পার্মানেন্টলি চলে যেতে তখন আমি যাবো না কারণ ঢাকার প্রতিও একটা টান হয়েগেছে আবার সেখানে গিয়ে পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়াতে পারবোনা ! তাই চাইনা আমরা এখন একেবারে দেশে চলে যাই ! কিন্তু তার মানে সেটা নয় আমার বাড়ির প্রতি টান নেই। নিঃস্বার্থ সব বন্ধু থাকলে কার মন চাইবে বাড়ি ছেড়ে আসতে ? ওরা আমাকে অনেক ভালোবাসে। আমি অনেক ভাবেই তাদেরকে পরীক্ষা করে দেখেছি ,তারা কোনোদিন আমাকে ধোকা বা আমার সাথে মিথ্যা কথা বলবেনা।
আমি আমার মাতৃভূমিকে অনেক ভালোবাসি। কেউ হয়তোবা তার দেশকে আবার কেউ হয়তোবা তার গ্রাম কে। কিন্তু তাদের মূল বিষয়টা সাদৃস্যপূর্ণ। তাদের উদ্দেশ্য একই । তারা তাদের মাতৃভূমিকে মন প্রাণ দিয়ে ভালোবাসে। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আজ এখানেই শেষ করলাম।
Image source ;- Pixabay
Leave মাতৃভূমির টান। to:
Read more #hive-190212 posts
Best Posts From Shemanto
We have not curated any of shemanto72's posts yet. But you can encourage our curation team to review posts by visiting them regularly and by referring other readers. Because we give priority to frequently read content.