“Homonyms: Never have i ever "
কত কি যে করা বাকি
কতকিছুই করতে যে ইচ্ছে হয় কিন্তু বেশিরভাগই করতে পারি না।কিছু জিনিস করা হয় না নিজের সার্মথ্যের অভাবে,আবার কিছু বেপার এমন আছে যা করার সার্মথ্য নিজের থাকার পরও করতে পারিনা,হয়তো সামাজিক বা ধর্মীয় বিধিনিষেধ আছে সেই বেপারটায় তাই।আমাকে এমনভাবে বড় করা হয়েছে যে, সমাজ যে বেপারটা ভালো চোখে দেখে না, সে কাজ কিছুতেই কখনও করতে পারিনি বা ভবিষ্যতেও পারবো না।কারণ কোনো কিছু করার আগে সর্বপ্রথম মাথায় এই চিন্তা আসে যে "লোকে কি বলবে" যদি উত্তরটা এমন হয়,ভালো বলবে না বা শুধু বাঁকা চোখে তাকাবে তাহলেই হলো আর ঐ কাজের আশপাশ দিয়ে আমি নেই।এসব কারণে প্রচুর এমন জিনিস আছে যা আমি জীবনে একবারও করিনি।তো তার মধ্যে কয়েকটা আমি এখন বলতে চলেছি,এগুলোর মধ্যে মিথ্যাও থাকতে পারে,সব সত্যিও হতে পারে আবার সব মিথ্যাও হতে পারে।
প্রেমে পড়া বারণ
'প্রেম' শব্দটা সেই ছোট থেকে অনেক খারাপ একটি শব্দ বলে মনের মধ্যে স্থান করে নেয় পারিপার্শ্বিক অবস্থার কারণে।খারাপ বলতে খুবি লজ্জার বিষয় এমনকিছু।যখনই শুনা যেতো গ্রামের ঐ ছেলেটা প্রেম করে,তা পুরো গ্রামে ছড়িয়ে যেতো,আর সবাই ছি ছি ছি বলে প্রতিধ্বনি তুলতো।এসব কারণে প্রেম করা নিয়ে মনের মধ্যে এক বিরূপ ধারণা সৃষ্টি হয়।
আবার মুদ্রার আরেক পিঠও রয়েছে,আমি ছোট থেকে প্রচুর সাহিত্য পড়ি।বিশেষ করে বাংলা সাহিত্য।রবীন্দ্রনাথ,শরৎচন্দ্র থেকে শুরু করে হুমায়ুন আহমেদ সবার সাহিত্যেই প্রেম বেপারটা খুব সুন্দরভাবে উঠে এসেছে।প্রেমিককে খুব মহান হিসাবে তুলে ধরা হয়েছে,প্রেমিকরাই সাহিত্যের নায়ক।তো এসব সাহিত্য পড়ে যখন মনটা আবেগি হয়ে যেতো তখন আবার প্রেম করতে মন চাইতো।প্রেমিক হওয়ার স্বাদ জাগতো।শ্রীকান্তের রাজলক্ষ্মীর মতো আমারও কেউ থাকা উচিত এমন মনে হতো।
কিন্তু পরক্ষণেই আবার যখন সমাজ-ধর্মের কথা মনে হয় তখনই সব আবেগ উবে যায়,এসব চিন্তা-ভাবনার ফাঁদে পরে আর "ললিতার শেখর" হয়ে উঠা হলো না।
ঝগড়া করে বখাটেরা
ঝগড়া বলতে আমরা সাধারণত যা বুঝি আরকি মারামারি।স্বাভাবিকভাবে স্কুল-কলেজের ছেলেরা খুব মারপিট করে,বিশেষ করে স্কুলজীবনে বেশিরভাগ ছেলেদের কিছুনা কিছু মারামারির ইতিহাস আছে।মারামারি বলতে আবার অস্ত্র দিয়ে মারামারি না,ঐ শুধু হাত দিয়ে ঘুষি মেরে কারো নাক ফাটিয়ে দেওয়া,কিল দিয়ে পিঠ বাঁকা করে ফেলা বা থাপ্পড় মেরে দাঁত ফেলে দেওয়া, এসব স্কুলজীবনে ঘটা ছেলেদের কাছে সাধারণ কিছু ঘটনা।কিন্তু এই আমি আজ পর্যন্ত কারো সাথে মারামারি তো বহু দূরের বেপার,কোনদিন কারো সাথে কথা কাটাকাটি পর্যন্ত লাগিনি।যে স্কুলেই পড়েছি চুপচাপ গিয়েছি,শান্তশিষ্টভাবে ক্লাস করে চলে এসেছি।ক্লাসের সবার সাথেই আমার ভালো সম্পর্ক থাকতো তবে বন্ধুত্বের সম্পর্ক খুব কমই থাকতো এক দুইজন ছাড়া,আবার শত্রুও থাকতো না মানে মধ্যমপন্থা অবলম্বন যাকে বলে আরকি।
নেশা সর্বনাশা
নেশাদ্রব্যের মধ্যে খুবি পরিচিত হচ্ছে সিগারেট বা বিড়ি।আমি কোনদিন এইসব জিনিস ঠোঁটে স্পর্শ পর্যন্ত করাইনি।মানে অনেকে আছে না সিগারেটে নেশা নেই কিন্তু বন্ধু বান্ধবদের সাথে গিয়ে এক দুুটা টান দিলো,না এটাও আমার কোনদিন হয়নি।সিগারেট স্বাভাবিকভাবে স্পর্শই করিনি কোনদিন, তবে একদিন আমার নানুবাড়ির এক ভাই,ঘরে থাকা প্যান্টের পকেট থেকে সিগারেট আনতে বলে, তখন বাধ্য হয়ে হাতে স্পর্শ করে আনতে হয়,তাছাড়া আর কোনদিন এসব স্পর্শ করিনি।
মেয়ে থেকে শতমাইল দূরে
অবিবাহিত যুবকদের মেয়েদের প্রতি আকর্ষণ থাকাটাই স্বাভাবিক।তাই আবারও মেয়েদের বিষয় চলে আসলো।এটা সম্পর্কে তেমন খোলাখুলি কিছু বলার নেই,তবে প্রাপ্ত বয়স্ক হবার পর আমি কোনো প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের হাত পর্যন্ত স্পর্শ করিনি।
"আরে ভাই,প্রথমেই বললেন,প্রেম করেন নাই কখনও, তাহলে মেয়েদের হাত স্পর্শ করার কথা আসছে কোথা থেকে?"
না মানে আমি বলতে চাচ্ছি আমি মেয়ে মানুষের থেকে এতো দূরে থাকি যে অনিচ্ছাকৃতভাবে কারো শরীরে স্পর্শ লেগে গিয়েছে কখনও এমনটাও হয়নি।
বাসে চড়ে গরীবেরা
সেই ছোট থেকে ঢাকা শহরে থাকি।এই জ্যামের শহর ঢাকা শহর।এই শহরের বেশিরভাগ মানুষ বাসে যাতায়াত করে।কিন্তু আমার বাস দেখলেই বমি আসে।কখনও বাসে চড়া হয়নি।সব সময় নিজের ব্যক্তিগত গাড়িতে করে যাতায়াত করি।
পানিতে ভয়,সেখানে কুমির রয়
না না,পানিতে কুমির থাকে বলে পানিতে নামি না এমন না।আসল কথা হচ্ছে আমি সাঁতার কাটতে পারিনা,তাই পানিতে নামি না।আর পানিতে কখনও নামিনি বলেই সাঁতার কাটা শিখাও হলো না।আমার কি দোষ,আমাকে কখনও পানিতে নামতে দেওয়াই হয়নি,সে পুকুরের পানিই হোক বা ডোবার পানি।
থাক আর বলে লাভ নেই,বলতে থাকলে পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা শেষ হবে কিন্তু বলা শেষ হবে না।
জীবনে করেছি আর কি!সবই দেখি করা বাকি,বাংলাদেশের গড়আয়ু অনুযায়ী জীবনের তিনভাগের প্রায় একভাগ সময় শেষ হওয়ার পথে,এখনও কিছুই করা হলো না।আহারে জীবন!
Leave “Homonyms: Never have i ever " to:
Read more #bdc posts
Best Posts From shaonashraf
We have not curated any of shaonashraf's posts yet. But you can encourage our curation team to review posts by visiting them regularly and by referring other readers. Because we give priority to frequently read content.