Saiful's Classroom avatar

পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়া বা কমায় আমাদের উপর প্রভাব ও এর বাস্তবতা

engrsayful

Published: 12 Jul 2020 › Updated: 12 Jul 2020পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়া বা কমায় আমাদের উপর প্রভাব ও এর বাস্তবতা

পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়া বা কমায় আমাদের উপর প্রভাব ও এর বাস্তবতা

ThumbNail.jpg

টাইটেল দেখেই কিছুটা অবাক হয়েছেন অনেকে হয়তো যে আমরা কেন আবার ঘোড়া কিংবা উটের কাছে ফিরে যাবো ! পৃথিবীতে যেসব পরিবর্তন আসছে সেই পরিবর্তন গুলো একেবারে চোখে পড়ার মতো। পৃথিবীতে যেমন খুব দ্রুততার সাথে উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে হয়তোবা অদূর ভবিষ্যতে খুব দ্রুতই আমরা আবার আদিম মানুষের মত পশু পাখির উপর নির্ভরশীল হয়ে যেতে পারি। এই কথাগুলো কেন বলছি তার পেছনে কিছু কারণ রয়েছে। তাই আজকে আমি এই কারণগুলো কিছুটা ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করব আশা করি বুঝতে পারবেন। এটি কোন বৈজ্ঞানিক সত্য কিংবা প্রতিষ্ঠিত থিওরি নয় বরং এটি আমার একটা অনুমান বা ধারনা। এটিকে সত্যিই বা অবশ্য ঘটনা এরকম কিছু ভাবার কোন কারণ নেই। আপনি আপনার বিচক্ষনতা ও বুদ্ধি দিয়ে যাচাই করে নিতে পারেন অথবা গবেষনা করতে পারেন।
landscape2130538_1920.jpg
Source: Image by かねのり 三浦 from Pixabay


পৃথিবী এখন চলছে প্রযুক্তি ও গ্যাজেটের যুগে। আমরা দিন দিন নিত্যনতুন অনেক অনেক নতুন প্রযুক্তি ও ডিভাইস আবিষ্কার করছি। উদ্ভাবনের কোন শেষ নেই, চলছে অবিরাম। যত বেশি আমরা উৎকর্ষ সাধন করছি ততো বেশি পরিমানে আশেপাশের পরিবেশ ধ্বংস করছি। এটা একটা বিষয়। আরেকটি বিষয় হলো খুব ভাল করে খেয়াল করলে দেখতে পাবেন, আমাদের আশেপাশের যত আধুনিক প্রযুক্তি সবই বিদ্যুৎ এর উপর বা জ্বালানীর উপর নির্ভরশীল। আপনি যত দামী মোবাইল, গাড়ি কিংবা যন্ত্র ব্যবহার করেন না কেন, সবই জ্বালানী ও বিদ্যুৎ এর উপর নির্ভরশীল। আমরা যেসব পন্য যেমন চার্জার, ঘড়ি, কাপড়, প্লেট, কলম, নাট, বল্টু ইত্যাদি ব্যবহার করি, এসব উৎপাদনেও কিন্তু জ্বালানী দরকার। তাই জ্বালানী অর্থাৎ শক্তি ছাড়া সবই অচল।

এই জ্বালানী কোথা থেকে আসে। আমরা জানি মাটির নিচ থেকে আসে।কয়লা, পেট্রোলিয়াম কিংবা খনিজ তেল, গ্যাস রূপে। কিন্তু এগুলো হল, অনেক আগের গাছপালা মাটির নিচে চাপা পড়ার ফলে। যেহেতু গাছপালা হল এসবের উৎস তাই এতে সূর্যের আলোর প্রভাব রয়েছে। সূর্‍্য হল এসব শক্তির উৎস। আবার আমরা যে জ্বালানী ব্যবহার করি কিংবা বিদ্যুৎ উৎপাদন করি তাতে সূর্‍্যের আলোর প্রত্যক্ষ প্রভাব রয়েছে। আপনি ভাবুন তো, যদি ১ সপ্তাহ বিদ্যুৎ বা জ্বালানী না থাকে পৃথিবীতে, তবে কিরকম আটকে যাবে বিশ্ব। অনেক দেশে বিদ্যুৎ সেকেন্ডের জন্য না থাকলে অনেক ক্ষতি হয়ে যাবে। এবার ভাবুনতো পৃথিবীতে সূর্‍্যের আলো যদি কমে আসে বা না থাকে তবে কি হবে। তাহলে বিদ্যুৎ বা জ্বালানী আস্তে আস্তে ফুরিয়ে যাবে। তখন আপনার গাড়ি চলবে কীভাবে। তখন আপনাকে গরু, ঘোড়া, গাধা কিংবা উটের উপরেই চড়তে হবে। মোবাইল থাকলেও ব্যবহার করতে পারবেন না। একসময় সব প্রযুক্তি, কল-কারখানা সব বন্ধ হয়ে যাবে। মানুষের পেশি শক্তি, তরবারি, তীর, গৃহপালিত জন্তু, ফলমূল ইত্যাদি হবে আমাদের সম্পদ আদিম মানুষের মত। এতক্ষনে হয়ত বুঝে গেছেন কি বলতে চাচ্ছি। কয়েকটা রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে নাসা (NASA) থেকে যেখানে বলা হয়েছে, সূর্‍্যের আলো কমে যাচ্ছে। আপনি হয়ত ভাবছেন, আরে এখনতো গ্লোবাল ওয়ার্মিং মানে সূর্‍্য্যের আলো বেড়ে বরফ গলে যাচ্ছে। এখানে আবার তাপ কমার কথা বলছে কে। আমি নই নাসাই একথা বলছে।

solarsystem11111_1280.jpg
Source: Image by WikiImages from Pixabay


বিজ্ঞানীরা এর নাম দিয়েছেন সোলার মিনিমাম বা মৌন্ডার মিনিমাম (Solar Minimum or Maunder Minimum) Science Daily তে পকাশিত এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত ১৭ শতাব্দীর মাঝামাঝি বিশ্ববাসীকে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। আর বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন ২০২০ থেকে ২০৭০ সালের মধ্যে এই ঘটনার সম্মুখীন হতে হবে আবারও বিশ্ববাসীকে। খুব বেশি চিন্তিত হবার কারন নেই। এটি খুব বেশি প্রভাব বিস্তার করবে এরকম তারা ধারণা করছেন না। প্রায় ১০ ভাগের ১ ভাগ অর্থাৎ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এক দশমাংশ পরিমাণ তাপমাত্রা কমে যেতে পারে। ১৭ শতাব্দীর সেই সময়টাতে বেশ কিছু দেশে অনেক ঠান্ডা পড়েছিল এবং কিছু সাগরের পানি জমে বরফ হয়ে রাস্তা তৈরি হয়েছিল যেমন বাল্টিক সী ।

বিশ্ববিখ্যাত ফোর্বস (Forbes) ম্যাগাজিনের আর এক রিপোর্টে বলা হচ্ছে যে, সূর্যের তাপ দিনদিন আনুপাতিক হারে বাড়ছে কারণ সূর্য আস্তে আস্তে ছোট হয়ে আসছে। এর পিছনে রয়েছে বেশকিছু কারন। যার মধ্যে একটি হল নিউক্লিয় ফিউশন বিস্ফোরণ যেহেতু আগের গতিতেই হবে এবং অনু সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে কিন্তু আকৃতি কমে আসছে তাই তাপের নিঃসরণ বাড়বে। সে যাই হোক, পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ুক বা কমুক দুটোই সমস্যা। এই রিপোর্ট বলছে ১-২ বিলিয়ন বছর পর এই হারে তাপ বাড়তে থাকলে পৃথিবীতে কোন পানির অস্তিত্ব থাকবে না। এটিও অনেক অনেক অর্থাৎ যোজন যোজন দূরের কথা। দুটি বিষয়ই অতটা গভীর নয়। তাই এই ব্যাপারে খুব বেশি মাথা ঘামানোর দরকার নেই। এই বিষয়টি ক্লিয়ার করার জন্য এতদূর কথা বলা। চাইলে আপনি আর্টিকেল এর দুটি লিংক (যা উপ্ড়েরে হাইপারলিংক করে দেয়া আছে) পড়ে আসতে পারেন।
climatechange2085527_1280.jpg
Source: Image by Tumisu from Pixabay


গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর কারন মূলত কার্বন ডাই অক্সাইড ও গ্রীন হাঊস গ্যাস। ওজোন স্তর ধ্বংস হওয়া, সাথে কার্বন ডাই অক্সাইড ও গ্রীন হাউস গ্যাস বাড়ে যাওয়া ও সুর্‍্যের আলো কমে আসা বা বেড়ে যাওয়া সব একসাথে মিলে কি হবে, কে জানে! তবে আমরা যে হারে কার্বন ও গ্রীন হাউস গ্যাস নিঃসরণ করছি, তাতে কোন অনুমান কোনদিকে যায় কে ঠিক করে বিজ্ঞানীদের পক্ষেও বলা মুশকিল। আপাতত কিছুই বুঝা যাচ্ছে না। আমাদের এখন পরিবেশ বাচানোর চেস্টা করা ছাড়া আর কিছুই করার নেই। বাকী সবকিছু সৃষ্টিকর্তার হাতে। আমরা আরেকটি কাজ এখন করতে পারি তা হল, এসব খবর নিয়ে খুব বেশি চিন্তিত না হয়ে ভাল কাজ করে যেতে পারি ও ভবিষ্যতে অপরাধ করব না পণ করে অতীত অপরাধের জন্য ক্ষমা চাইতে পারি। কে জানে, কালকেই হয়ত বেঁচে নাও থাকতে পারি।


টাইটেল ইমেজ সোর্সঃ Image by Jean Louis DEGENNE from Pixabay




আমি কে




আমি বাংলাদেশে টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের একজন প্রভাষক এবং সদ্য বাবা। আমি আমার চিন্তাভাবনা এবং ধারণাগুলি আমার বন্ধুদের এবং সম্প্রদায়ের সাথে ভাগ করে নিতে ভালোবাসি। ইউটিউব, ডিটিউব, হাইভে ব্লগিং করতে ভালবাসি। আমি শেয়ার করতে চাই ওইসবকিছু যা আমি শিখেছি যাতে মানুয আমার থেকে কিছুটা হলেও উপকৃত হতে পারে। আমি আমার ব্লগে টেক্সটাইল, অনলাইন আয়, ও নানান রকম আকর্ষনীয় বিষয় নিয়ে কথা বলে থাকি। আমি সর্বদা একজন শিক্ষানবিস হিসেবে সবার থেকে শিখতে চাই ও এই কমিঊনিটির সাথে এগিয়ে যেতে চাই।


zxddz4gt63.gif

Upvote, Resteem and Follow me on hive engrsayful@engrsayful


Find me on social media

Follow me on DTube
Follow me on Youtube
Follow me on ThreeSpeak
Follow me on Facebook
Follow me on Twitter

Leave পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়া বা কমায় আমাদের উপর প্রভাব ও এর বাস্তবতা to:

Written by

(Peace of Almighty be upon you) Normally i follow each and everybody who follows me.

Read more #bdc posts


Best Posts From Saiful's Classroom

We have not curated any of engrsayful's posts yet. But you can encourage our curation team to review posts by visiting them regularly and by referring other readers. Because we give priority to frequently read content.

More Posts From Saiful's Classroom