Aminul Islam avatar

অভিজ্ঞতা

aislam

Published: 11 Jul 2021 › Updated: 11 Jul 2021অভিজ্ঞতা

অভিজ্ঞতা

অভিজ্ঞতা

stones-3364324_960_720.jpg
Image score

সকালে নাস্তা করার জন্য খাবার টেবিলে বসলাম বাবা-মা ও আমি। বাবার কাছে সাহস করে কিছু চাইতে পারি না বলে মায়ের দিকে ইশারা করে বললাম বাবাকে এই কথা বলতে যে আমার ১০ হাজার টাকা লাগবে। খাবার টেবিলে বসে মা তখন ভয়ে ভয়ে বাবাকে বলতে লাগলো ..........

মা : আপনার ছেলের ১০ হাজার টাকা লাগবে। ও আপনাকে বলতে সাহস পাচ্ছেনা।

বাবা : কেন ? কি করবে ১০ হাজার টাকা দিয়ে ?

মা : বন্ধুদের সাথে নাকি কক্সবাজার যাবে ঘুরতে তিন দিনের জন্য।

বাবা তখন আমার দিকে তাকিয়ে বলতে লাগলো ........
বাবা : আচ্ছা বাবা তোকে আমি টাকা দিবো। তবে আমি তোকে একটা কাজ দিবো সেই কাজটা করার পর।

আমি : কি কাজ বাবা বলো।

বাবা : আমি ২ দিনের জন্য ঢাকা যাবো। দোকানে মাল কমে গেছে। ঢাকা থেকে নতুন কিছু মাল আনবো। এই দুইদিন তুই আমার দোকানে বসবি। আর আমি ঢাকা থেকে এসে তোকে টাকা দিবো।

আমি : ঠিক আছে বাবা তুমি চিন্তা করোনা। আমি দোকানে বসবো।

বাবা টাকা দিবে শুনে আমি খুশিতে আত্মহারা।

বাজারে বাবার একটা ছোটোখাটো কাপড়ের দোকান আছে। প্রায় সময় আমি দোকানে আসলেও কখনো পণ্য বেচাকেনার উদ্দেশ্যে বসিনি। আজি প্রথম দোকানে বসলাম। তবে আমি আজ প্রথম দিনেই অবাক কিছু অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি।

একজন ক্রেতাকে ২০ টার মতো নতুন শার্ট দেখালাম। এত গুলো শার্ট দেখার পরেও ক্রেতা বললো ......
ক্রেতা : না ভাই একদমই পছন্দ হয়নি।

আমি একটু অবাক হয়ে বললাম। ......
আমি : এত গুলো সুন্দর শার্টের মধ্যে আপনার একটা শার্টও পছন্দ হয়নি ?

ক্রেতা : না না , এগুলো পছন্দ হওয়ার মতো শার্ট নাকি।

এই কথা বলে ক্রেতা চলে গেলো। তারপর আমি মন খারাপ করে শার্ট গুলো ভাঁজ করতে লাগতাম। এমন সময় আরেক জন ক্রেতা এসে বললো। ..
ক্রেতা : আমাকে কিছু ভালো প্যান্ট দেখান।

তখন আমি কিছু ভালো মডেলের প্যান্ট দেখতে লাগলাম। তারপর ক্রেতা অনেক গুলো প্যান্ট দেখে একটা প্যান্ট পছন্দ করলো।
ক্রেতা : এই প্যান্টের দাম কত ?

আমি : এই প্যান্টের দাম ১০০০ টাকা।

ক্রেতা : ৩০০ টাকা হবে ?

ক্রেতার দাম শুনে দাঁতগুলো কিটমিট করে নিজের রাগ নিয়ন্ত্রন করে হাসি মুখে বললাম। ....
আমি : না ভাই , এত কম টাকায় হবে না।

এর কিছুক্ষন পর এক মহিলা এসে এক ঘন্টা ধরে দোকানের সমস্ত কাপড় উল্টিয়ে পাল্টিয়ে দেখে তারপর ২ টা কাপড় পছন্দ করলো। আর বললো। .....
মহিলা : আমার স্বামী আর তিন দিন পর বেতন পাবে। তারপর এসে আমি এই কাপড়গুলো নিয়ে যাবো।

মহিলার এই কথা শুনে আমার রাগে সারাশরীর কাঁপছিলো। তারপরেও কিছু বলতে পারলাম না। কারণ ক্রেতা বলে কথা। নিজের রাগ নিয়ে ভিতরে রেখে মুচকি হাসি দিয়ে বললাম। .....
আমি : ঠিক আছে আন্টি , আংকেল যেদিন বেতন পাবে সেদিন আংকেল কে নিয়েই আয়সেন।

কাপড় গুলো গুছিয়ে সারতেই আবার নতুন বিয়ে করা একজন যুবক আসলো তার বউকে সাথে নিয়ে। এসে একের পর এক জামা দেখতে বলতে লাগলো আর আমিও আমার দোকানের সমস্ত জামা দেখাতে লাগলাম। কিন্তু তাদের কোনো জামা কাপড় পছন্দ হচ্ছে না। বলছে আরো ভালো মানের জামা দেখান।

এক পর্যায়ে আমি রাগ হয়ে বলেই ফেললাম। ....
আমি : এতো ভালো জামা কাপড় চাইলে ঢাকা বসুন্ধরা সিটিতে চলে যান।

আমার কথা শুনে লোকটি আমাকে একটা ধমক দিয়ে দোকান থেকে বেরিয়ে গেলো। এই পৃথিবীতে কত রকমের মানুষ আছে তা হয়তো এই দোকানে না আসলে আমি বুঝতে পারতাম না। কতজনের কাছ থেকে কত কথা শুনতে হচ্ছে। দিন শেষে হিসাবের খাতা বের করে হিসাব করলাম। দেখলাম দোকানের খরচ বাদ দিয়ে লাভ হয়েছে ৫০০ টাকার মতো। আমি তিন দিন দোকানে বসে কাপড় বিক্রি করে আমার লাভ হলো ২০০০ টাকা। আর এই তিন দিনে আমি যে কষ্ট করেছি , মনে হয়না আমি আমার জীবনে এত কষ্ট করেছি।

রাতে নিজের রুমে বসে ফোন দেখছিলাম। তখন বাবা আমার রুমে এসে আমার পাশে বসে পকেট থেকে দশ হাজার টাকা বের করে বললো। ...
বাবা : এই নে। তোর দশ হাজার টাকা।

আমি : কিসের দশ হাজার টাকা ?

বাবা : তুই না বললি তোর বন্ধুদের সাথে কক্সবাজার ঘুরতে যাবি।

আমি : (বাবার চোখের দিকে তাকিয়ে বললাম ) বাবা আমি আগে বুঝতাম না টাকা আয় করা কতটা কষ্টের। তাই তোমার কাছে এতকিছু আবদার করতাম। আমি এই তিন দিনে খুব ভালো করেই বুঝতে পারছি টাকা আয় করা কতটা কষ্টের। আমি তো তিনদিনে তিন হাজার টাকাও আয় করতে পারলাম না। আর সেই আমি মাত্র দুই দিনের জন্য দশ হাজার টাকা তোমার কাছে আবদার করেছিলাম। এত গুলো টাকা খরচ করা আমাদের মতো মধ্যেবিত্ত পরিবারের জন্য অপচয় করা ছাড়া আর কিছুই নই। এই দশ হাজার টাকা দিয়ে তুমি দোকানে আরো নতুন কিছু কাপড় কিনে আনো।

আমি বাবার কষ্ট গুলো তখন বুঝে গিয়েছিলাম। তখন আমি বাবাকে এটাও বললাম বাবা আমি এখন থেকে সময় পেলে দোকানে গিয়ে বসবো। বাবা চুপ করে থাকলো কথার কোনো উত্তর দিলেন না। বাবার চোখের দিকে তাকাতেই দেখলাম বাবার চোখ দিয়ে পানি পড়ছে। আমি জানি এই চোখের পানি বাবার আনন্দের পানি।

ভালোবাসা সকল বাবাদের প্রতি। যারা নিজেদের কষ্ট আড়াল করে সন্তানের অক্লান্ত পরিশ্রম করে সন্তানকে উপহার দেন সুন্দর ও নিরাপদ জীবন।

Thank you all for visiting my page and giving your nice support.
aislamHive account@aislam
Check my others social sides profile-
Facebook - https://www.facebook.com/profile.php?id=100007607950342
Instagram- https://www.instagram.com/aminul6032/?hl=en

Leave অভিজ্ঞতা to:

Written by

Love photography

Read more #experience posts


Best Posts From Aminul Islam

We have not curated any of aislam's posts yet. But you can encourage our curation team to review posts by visiting them regularly and by referring other readers. Because we give priority to frequently read content.

More Posts From Aminul Islam